Powered by Blogger.

Followers

Showing posts with label বিচিত্র. Show all posts
Showing posts with label বিচিত্র. Show all posts

জ্যান্ত কবর!

মৃত্যুর পর মাটির নিচের জগতে প্রবেশ করতে হবে_এ কথাটা তো সবারই জানা। কিন্তু যদি এমন হয়, কোনো মানুষকে মৃত ভেবে কফিনে ঢুকিয়ে কিংবা মাটিচাপা দেওয়া হলো আর পরে জানা গেল, মানুষটা আসলে মৃত ছিল না! জ্যান্ত কবর নিয়ে প্রধান ফিচার লিখেছেন ফাহমিদা হক
গা শিউরানো জ্যান্ত কবর দেওয়ার ঘটনা অনেক ঘটেছে, জেনে হোক বা না জেনে। একটা সময় ছিল, যখন কাউকে শাস্তি হিসেবে কোনো কফিনে ভরে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হতো। প্রাচীন রোমে, একজন যাজককে দোষী সাব্যস্ত করে সামান্য রুটি আর পানির সঙ্গে একটি বাঙ্ েভরে সিল করে পুঁতে ফেলা হয়। বলা হয়, যদি তিনি নির্দোষ হন তাহলে তাঁর ঈশ্বরই তাঁকে রক্ষা করবেন। অবশ্য তাঁর ভাগ্যে কী ঘটেছিল, তা জানা যায়নি। অনেক যাজককেই এভাবে প্রাণ হারাতে হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ছিলেন সেন্ট কাস্তুলাস ও সেন্ট ভিতালিস অব মিলান।
মধ্যযুগে ইতালিতে অনেক খুনিকেও এভাবে জ্যান্ত কবর দিয়ে শাস্তি দেওয়া হতো। সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকের গোড়ার দিকে সামন্ততান্ত্রিক রাশিয়ায়ও এমনিভাবে জীবন্ত পুঁতে ফেলে শাস্তির বিধান ছিল সেসব মেয়ের জন্য, যারা নিজেদের স্বামীকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। এই শাস্তির বিধানটি পরিচিত ছিল 'দ্য পিট' নামে। এ ধরনের শাস্তির বিধান প্রচলিত ছিল ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি সেনারা চীনা নাগরিকদের এভাবে জ্যান্ত পুঁতে ফেলত, যা 'ন্যানজিং হত্যাযজ্ঞ' নামে পরিচিত।
অনিচ্ছাকৃত ঘটনা
তবে সব সময় যে শাস্তির জন্যই জ্যান্ত কবর দেওয়া হতো, তা নয়; কখনো কখনো ভুলে জ্যান্ত মানুষকে মৃত মনে করে কবর দিয়ে দেওয়া হতো। এভাবে কবর দেওয়ার ফলে বেশির ভাগ সময়ই জীবিত মানুষটা মাটির নিচেই দম বন্ধ হয়ে কিংবা খাবারের অভাবে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে মারা পড়ে। মৃত্যুর আগেই যদি ভুলে জ্যান্ত কবর দিয়ে দেওয়া হয়_এই ভয়ে জর্জ ওয়াশিংটন মৃত্যুশয্যায় ভৃত্যদের শপথ করান, তাঁর মৃত্যুর পর ১২ দিন পার না হলে যেন তাঁকে কবর না দেওয়া হয়। ১৮৯০ সালের দিকে অনেক রোগীকেই মৃত মনে করে মর্গে পাঠিয়ে দেওয়ার দৃষ্টান্তও রয়েছে।

* দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ১৮৫১ সালে মারা যান ভার্জিনিয়া ম্যাকডোনাল্ড। কিন্তু তাঁকে কবর দিয়ে দেওয়ার পর মায়ের মনে হতে থাকে, তাঁর মেয়ে বুঝি এখনো বেঁচে আছে। ভার্জিনিয়ার কফিনটি তুলে আনার পর দেখা যায়, 'মৃত' ভার্জিনিয়ার হাত দুটি ক্ষতবিক্ষত। কফিনের গায়ে আঁচড়ের ধরন দেখেই অনুমান করা যায়, কতটা চেষ্টা করেছিল সে কফিন থেকে বেরিয়ে আসার।

* ১৮৯৬ সালে 'মৃত' ঘোষণার পর ম্যাডাম ব্লনডেনকে সমাহিত করা হয় একটি স্কুলের নিচে। কিন্তু স্কুলের বাচ্চারা যখন মাটির নিচ থেকে শব্দ শুনতে পাওয়ার অভিযোগ করে, তখন আবার কফিন ওপরে তুলে আনা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, সে সময় ব্লনডেন ছিলেন জীবনের অন্তিম মুহূর্তে, অল্প অল্প শ্বাস নিতে নিতেই ত্যাগ করেন শেষ নিশ্বাস।

* ১৮৮৬ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত একটি খবর অনুসারে, কলিন্স নামের একটি ছোট্ট মেয়ে হঠাৎ মারা যাওয়ার পর তাকে সমাহিত করা হয়। কিন্তু পরে আবার তার কফিন খোলার পর দেখা যায়, তার হাত, পা আর মুখের অভিব্যক্তি ছিল ভীষণ অস্বাভাবিক, যা তাকে জীবন্ত কবর দেওয়ার ব্যাপারটি প্রমাণ করে।

* ১৮৮৯ সালে দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের একটি খবরে গ্রেনোবলে সমাহিত করা একটি অজ্ঞাত লোকের কাহিনী ছিল। লোকটিকে মৃত ঘোষণা করার পর যখন তাঁর কফিনটি মাটিতে রাখা হচ্ছিল, তখন হঠাৎই ভেতর থেকে গোঙানি আর হাতড়ানোর শব্দ শোনা যায়। কিন্তু যতক্ষণে কফিনটি খুলে তাঁকে বের করে আনা হয়, ততক্ষণে তিনি দম বন্ধ হয়ে মারাই গেছেন। প্রায় একই ধরনের ঘটনার খবর প্রকাশিত হয় ১৮৩৮ সালে, দ্য সানডে টাইমসে।
* ১৮৭৭ সালে দ্য ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে এক মহিলার কথা বলা হয়, যাঁকে মৃত ঘোষণার পর সমাহিত করা হয়। কিছুদিন পর যখন আরেকটি মৃতদেহ দাফনের জন্য তাঁর কবর খোঁড়া হয়, তখন দেখা যায়, তাঁর শরীরটি ভীষণ বাঁকানো। এমন ঘটনা ঘটে ১৮৮৪ সালে মিস হকওয়াল্টের বেলায়ও।

* ১৮৭১ সালে ১৭ বছর বয়সী ম্যারি নোরাহ বেস্টকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তবে ধারণা করা হয়, তার মৃত্যুতে অনেকে উপকৃত হবে বলেই হয়তো তাকে তড়িঘড়ি সমাহিত করা হয়েছিল। ১৮৮১ সালে কফিন খুলে ম্যারির কঙ্কালটি পাওয়া যায় বসা অবস্থায়!

* ১৯০১ সালে মাদাম ববিন ইয়েলো ফিভারে আক্রান্ত হন। সে সময় তিনি ছিলেন গর্ভবতী। তাঁকে মৃত ঘোষণার পর যখন সমাহিত করা হচ্ছিল, তখন তাঁর নার্সের মনে হচ্ছিল, যেন তাঁর শরীরটা গরম আর পেশিগুলোও খুব একটা শক্ত নয়। পরে তার কফিন খুলে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। তিনি সেখানেই একটি বাচ্চা প্রসব করেছেন আর তারা দুজনই শ্বাস আটকে মারা যায়।

 আইসক্রিম থেকে সাবধান!

অবসর সময়ে একটু আয়েশ করে আইসক্রিম খাচ্ছেন। মাথা ও শরীরটাকে একটু চাঙা করতে চাইছেন। ভালো কথা। কিন্তু খুব খেয়াল! খাবেন—তবে লুকিয়ে লুকিয়ে। কারণ, তৃষ্ণা মেটানোর জন্য যে আইসক্রিম আপনি খাচ্ছেন, তা যদি কেউ দেখে ফেলে, তাহলে উত্তেজিত হয়ে আপনার নামে যৌন হয়রানির মামলা ঠুকে দিতে পারে অনায়াসেই। প্রকাশ্যে একটি আইসক্রিম খেয়েই কিন্তু ফেঁসে গেলেন আপনি। তবে এই আইন নারীদের জন্যই বেশি প্রযোজ্য।
গতকাল শনিবার ডেইলি মেইল অনলাইনের এক খবরে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
খবরে বলা হয়, ফিনল্যান্ডের একদল আইনজীবী অনেক ভেবেচিন্তে যৌন হয়রানির আইনে নতুন বিষয়টি সংযুক্ত করার সুপারিশ করেছেন। তাঁরা বলেন, যেসব নারী জনসমক্ষে অন্যকে উসকানি দেওয়ার ভঙ্গিতে আইসক্রিম খাবেন, শুধু তাঁরাই যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত হবেন। আর বিষয়টি সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করে তুলতে ওই আইনজীবী দল ইন্টারনেটে একটি ভিডিওচিত্র ছেড়েছেন। তাতে দেখানো হয়েছে, কর্মক্ষেত্রে খুবই অশালীন ইঙ্গিতপূর্ণভাবে আইসক্রিম খাচ্ছেন এক কর্মজীবী তরুণী। আর এ তরুণীর পুরুষ সহকর্মীরা খুবই বিব্রত, অথচ উত্সুক হয়ে তাঁর আইসক্রিম চুষে খাওয়া দেখছেন।
ওই আইনজীবী দল বলে, এটা কি তাহলে যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ে না? এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে দ্য ফিনিশ লইয়ারস অ্যাসোসিয়েশন। অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রে অনেকে অনেকভাবে নারী বা পুরুষকে যৌন হয়রানি করে থাকে। আর এ ভিডিওচিত্র সে বিষয়ে মানুষকে সতর্ক ও সচেতন করে তুলবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌন হয়রানিবিষয়ক আইনের এক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, ভিডিওচিত্রটিতে দেখা যায়, ওই নারীর আইসক্রিম খাওয়ার ধরনটি যৌন উত্তেজনাপূর্ণ। আর এ কারণে যে কেউ চোখের পলক না ফেলে ওই নারীর দিকে তাকিয়ে থাকতে পারে। ইউরোপের আইনে বলা আছে, যদি কেউ অন্য কারও সামনে ইচ্ছাকৃতভাবে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে, তাহলে সেটা অপরাধ। সেই হিসেবে ভিডিওচিত্রটিতে ওই নারীর আইসক্রিম খাওয়ার উত্তেজক দৃশ্যটি অবশ্যই যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ে।

Facebook Twitter RSS